নগর সভ্যতার দলিল . . .

নগর সভ্যতার দলিল . . .

এই নগরীতে জন্মে ছিলাম – সেই এক দিন ;
পথ হাঁটতে হাঁটতে জেনেছি নগর সভ্যতার সেই সব দলিল-
সেই আন্টা ঘর , বিউটি বোডিং, বাংলাবাজারের রমণীরা – সেই এক দিন ;

জমিদার বাড়ী, পাতলা খান লেনের হ্যাপী আকন্দ, গে্রগরীর ব্রাদার হবার্ট,
বাংলা বাজারের বই পাড়া; সেই এক দিন; পথ হাঁটতে হাঁটতে জেনেছি নগর সভ্যতার সেই সব দলিল ।

আমার বাবার মতোন কালো কোট পরা উকিলেরা-
আজো হেঁটে যায় সেই জজ আদালতে ; আজাদ সিনেমা হল, বিস্মৃতির ধোলাই খাল,গেন্ডারিয়া, ওয়ারীর সেই সিমিটি্র ;
সেই এক দিন ; পথ হাঁটতে হাঁটতে জেনেছি নগর সভ্যতার সেই সব দলিল ।

কামাল, নুপুর,ঝুমুর আর টুম্পারা চলে গেছে সেই কবে;
এই নগর সভ্যতার গলি থেকে;
এখন এখানে নব সভ্যতার কংক্রিট-
সেই এক দিন ; পথ হাঁটতে হাঁটতে জেনেছি নগর সভ্যতার সেই সব দলিল ।

আমাদের ছেলে বেলায় দেখা- সেই কবি;
কবি চন্দন ঘোষ – এক দিন এই নগর ছেড়ে চলে গেছে সেই কবে ;
অফুরন্ত তার সেই “চন্দনা- তুমিতো কিছুই বল্লেনা”
সেই এক দিন ; পথ হাঁটতে হাঁটতে জেনেছি নগর সভ্যতার সেই সব দলিল ।

সৃষ্টকাল, ১৯ অক্টোবর ২০১৪
পাতলা খান লেন,পুরান ঢাকা
-মনিরুল আলম

Advertisements

একটি শংকার রাত

একটি শঙ্কার রাত ছবি: মনিরুল আলম

একটি শঙ্কার রাত ছবি: মনিরুল আলম

তখন প্রায় রাত দেড়টা। ঘরময় ঘন অন্ধকার। শুধু ফ্যানের শো শো শব্দ আসছে; থেকে থেকে। অনেকটা দূর থেকে জানালা দিয়ে সড়ক বাতির একটু-আধটু আলো আসছে। তা কেবল আবছায়া ছাড়া অন্য কিছু নয়।

হঠাৎ করেই- মেঘ ঘুমের ঘোড়ে উঠে বসে। যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকে। মেঘের বাবা-মা সেই শব্ধে; চকিত ঘুম ভেঙে যায়। তারা দেখে তাদের চার বছরের বাবুটা অন্ধকার বিছানায় বসে আছে। মেঘের বাবা, ডিমলাইটা জ্বালালেই ব্যাপারটা একটু পরিষ্কার হয়।

তখন মেঘের দুই চোখ দিয়ে পানি গড়াচ্ছে,সে বড় বড় করে শ্বাস নিচ্ছে। নি:শ্বাসের তালে তালে তার ছো্রট বুকটা প্রচন্ড বেগে উঠা-নামা করছে। সেই সঙ্গে সে ঘেমে উঠছে। মেঘের মা’ জিজ্ঞেস করে-কী হয়েছে বাবা, সে তখনো হাঁপাচ্ছে। ঠিক মত কথা বলতে পারছে না। বাবা-মা’র হাতের স্পর্শে- মেঘ যেন একটু সঞ্চিত ফিরে পায়! আর তখনই সে কথা বলে উঠে।

বাবা-আমার বুকে কষ্ট হচ্ছে-আমি নি:শ্বাস নিতে পারছি না। চার বছরের একটি ছোট ছেলে যখন যন্ত্রণায় ছটফট করে- একথা বলে উঠে,তখন বাবা-মা’র মনের অবস্থা কী হতে পারে! উদ্বিগ্ন বাবা-মা তখন দিশেহারা। মেঘকে নিয়ে দুজনেই ব্যস্ত হয়ে উঠে। একবার বাবার কোলে আর একবার মায়ের কোলে। ছোট মেঘ যেন কিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছেনা। যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকে। তাকে পানি খাওয়ানো হয়। ওর বাবা মেঘকে কোলে নিয়ে ঘরময় পাইচারি করতে থাকে কিন্তু কিছুতেই যেন মেঘের কষ্ট থামে না। বেচার একটু পর পর অস্বাভাবিক গতিতে শ্বাস ফেলতে থাকে।

ভোর হতে এখনো অনেক বাকি। জানালা দিয়ে উকি দিতেই চোখে পরে দূরের সেই সড়ক বাতি। মিটমিট করে জ্বলছে। চাঁদহীন আকাশ ঘন-ঘোর অন্ধকার। তা যেন বিভিষিখাময় হয়ে উঠে। দূরে পুরনো এক তলা বাড়ীর ছাঁদ। সেই ছাঁদ থেকে পাহারাদার কুকুরটা সুর করে ডেকে উঠছে একটু পরপর। মনে হয় যেন কুকুরটা কাঁদছে। রাত গভীর হলে কুকুরটা থেমে থেমে এরকম ডেকে চলে। ঐ রকম ডাক শুনলে ভয় হয়। অজানা শংকায় বুকটা কেঁপে উঠে। প্রবীনেরা কুকুরের ঐ ভাবে ডাকা কে অশুভ সময়ের ইঙ্গিত হিসাবে জেনে আসছেন দীর্ঘকাল।

পুরনো সেই বাড়ীর দেয়াল কোথাও কোথাও খসে পড়েছে ইটবালুর আস্তর। কোথাও রঙ চটচটে তামাটে দাগ। সামনের উঠানে; প্রায় দেয়াল ঘেষে উপরের দিকে উঠে গেছে একটা কাঠ মালতি গাছ। তার পাশেই পেয়ারা আর একটু দূরে তুলসি গাছ। এই অন্ধকার রাতেও থোকায় থোকায় ফুটে আছে কাঠ মালতিরা। ঠিক যেন তারার মতো মিটমিট করে জ্বলছে। থমকে যাওয়া এই অন্ধকার সময়ে ওরাই যেন প্রাণ। ভোর হলেই ওরা চলে যাবে পাশের মন্দিরে। ওদের পালন কর্তা পূজার জন্য উৎসর্গ করে ওদের প্রতিদিন। সারারাত ওরা আপন গতিতে ফুটে চলে থোকায় থোকায়। ভোর হলেই চলে যায় পুজা-অর্চনায়।

মোবাইলের সুইচ অন করতেই এক ঝলক সাদা আলো জানান দেয়। এখন রাত তিনটা। সময় যেন এখানে থমকে আছে। উদ্বিগ্ন বাবা-মা ভোরের অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকে। কি জানি? কি কারণে যেন কুকুরটা তার কান্না থামিয়ে দেয়।

মেঘদের ঘরের গুলগুলিতে বাস করে বেশ কিছু চড়াই। তারই দুই একটা যেন; একটু ডেকে উঠে। ওরাও যেন আগামী ভোর দেখার অপেক্ষায়। জগতের এই প্রাণী গুলোর কাছে আগামী ভোরটাকে যেন কাঙ্খিত হয়ে উঠে।

অন্ধকার ভেদ করে অবশেষে পূর্বাকাশে দেখা দেয় সেই কাঙ্খীত ভোর। আরেকটা আগামীর স্বপ্ন।

লালমোহন সাগরের সেলিম পাগল . . .

আমার নাম মো:সেলিম ।পাগল মানুষ ।মাজারে মাজারে থাকি ।ছবি: মনিরুল আলম

আমার নাম মো:সেলিম ।পাগল মানুষ ।মাজারে মাজারে থাকি ।ছবি: মনিরুল আলম

তার সারা শরীরে একটা চট জড়ানো । বুকে ঝোলানো আজমির শরীফের ছবি । মহাখালির ফুটপাত ধরে একরকম ছুটেই চলছেন ।কথা বলার জন্য ডাক দিতেই-বাবা,আমার ছবি তুলবেন না ।

আপনি গলায় আজমির শরীফের ছবি ঝুলিয়ে রাখতে পারেন ,আর আমি ছবি তুললে কি হয়?

না বাবা,অনেকে ফটো তুইলা উল্টাপাল্টা করে ,এতে আমাগো খেতি হয়।

আপনার এই পাগল জীবনের ইতিহাস জানতে চাই?

আমার নাম মো:সেলিম ।পাগল মানুষ ।মাজারে মাজারে থাকি ।খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি,গরিবে নেওয়াজ,শাহ আলী আর মনে করেন হযরত গোলাপ শাহ বাবার মাজারে পাগল মানুষ হিসাবে পইড়া থাকি ।মনে করেন পাগল মানুষের তো কোনো ভিসা নাই,যে যা দেয় তা-ই খাই,বিষ দিলে বিষ খাই,পানি দিলে পানি খাই-১০ বছর ধইরা এমনে চলতাছি।

আপনার ঢাকায় ভিসা লাগল কবে?

আমি মনে করেন ,বড়র থেইকা ছোড হইছি ঢাকায় ।আমার ভাদাইম্যা বাপ যখন আমাগো ফালাইয়া থুইয়া গেলোগা ,হেয় পরে মায়ের লগে ঢাকায় চইলা আইছি ।আমাগো দেশের বাড়ি ভোলা লালমোহন থানা চরফ্যাশন- গ্রাম গজারিয়া ।বাবা,আমি অনেক গরিবের সন্তান ।উপরে আল্লাহ আছেন সৃষ্টিকতা ।আমার বড় ভাই হেইডাও একটা ভাদাইম্যা ।আমার বড় বইনরে ঢাকা আইনা টেকার লোভে বেইচা ফালাইল ।

আপনারা কয় ভাই কয় বোন ?

আমরা তিন ভাই তিন বোন আছি – হের পরে মনে করেন দশ জনে যেডা কইবো হেইডা হইবনা – তো মনে করেন দশ জনে যেডা কইছে হেডা হইছে ।আমার বইনেরে বাসা বাড়ির কামে দিয়া বেইচা ফালাইছে ।বড় বইনেরে ছুটাইতে গিয়া আর চিকিৎসা করাইতে গিয়া বাড়িঘরে যা আছিল তা বেইচা ফালাইল আমার মায় ।আমরা হইলাম পথের ফকির ।

কাম করতে করতে বেইনের দুইডা হাত পইচা গেছিল । আমার বুড়া মায়রে বাপে দেয়না খাওন,ভাইয়ে দেয়না খাওন – মনের দুঃখে বাড়ির থন বাহির হইয়া আইছি ।তবে বাবা আমি মায়ের দোয়া লইয়াই মাজারে মাজারে ঘুরি,তিন বইনেরে বিয়া দিছি ,ভোলায় যা আছিল সব বেইচা আমি আর আমার মা- এখন নারায়নগন্জের ফতুল্লায় এক খুপরিতে থাকি ।

আপনিতো মাজারে মাজারে থাকেন কইলেনে তো মায়ের লগে আবার কেমনে থাকেন ?

আমি মাঝে মাঝে দেখতে যাই ।কোন মায়-ই চায় না তার সন্তানরে ফালাইয়া দিতে । আমিও আমার মায়েরে ঠিকই দেহি ।

এখন কিভাবে আপনি আর অপনার মা চলেন ?

বাবা,আল্লায় চালায় । বাবা আমি দশ জনের কাছে হাত বাড়াইয়া খাই,কারোটা মাইরা কাইটা খাইনা ।

আপনি কি বিয়া করছেন?

আমি বাবা, বিয়া করি নাই ।আমার লগে বাবা মিছা কথা পাইবেন না – আমি সত্যই বিয়া করি নাই ।

আপনের গ্রামের কথা কিছু মনে আছে?

আমার এক বিশাল নদী আছে ,ওস্তাদ আপনি দেখলে ডরাইয়া যাইবেন ।ভোলা লালমোহন সাগরের নাম শোনেন নাই, এইহানকার নদী তো কিছুই না । আমার নদী এই পার থেইকা ওই পার কিছুই দেহন যায়না । আমার বাপের লগে ছোড বেলায় বড় বড় চউ মাছ ধরতে যাইতাম । নদীতে যহন ভাটা পড়ত হেই সময় এক পদের গোটা আছে “হুরমাইল”কয় – ভাটা হুকাই গেলে এক পদের গাতা হয়,হেই গাতায় হুরমাইল ছিটাই দিলে মাছ গাতার থন ফাল মাইরা উঠত । হেই মাছ আমার বাপে আর আমি বাজারে বিক্রি করতাম – আনজুরহাট,বাবুরহাটে । মঙ্গলবারে আর রবিবারে হাটে মাছ বিক্রি বেশী হইত ।

এক কাল দুই কাল যাইতে বাবায় একদিন হালায়া থুইয়া গেছেগা । বাপে নাই আমরা ছোড ছোড । আমার পড়লাম কষ্টে – খাওনের কষ্ট , পিনদনের কষ্ট । পরালেহা করার সুযোগ পাইনাই । পরালেহা করলে কি আইজ পাগলের মতো ঘুরতাম । সলিট কথা হোনেন – ভাই খাইতে চাইতাম ভাত পাইতাম না , খিদার জ্বালায় কানতাম-মানুষের ঘরের থাইকা ফেন খাইয়া পেট বাচাঁইছি । বাবা,খাওয়ার কষ্ট যে কি কষ্ট , তা আপনারা বুঝবেন না ।

মাজারে ঘুইরা কি পাইলেন ?

বাবা,পাইছি ঠিকই , কিন্তুক রাখতে পারি নাই,তয় মানুষ চিনছি – মাজারে যে কত পদের মানুষ আসে ।

দেশের বাড়িতে কি যান ?

বাবা , দেশের বাড়ি কউ ছাড়ে , জন্মের টান । আমার গ্রামের দক্ষিণে সাগর অঞ্চল , কোনো বাড়িঘর নাই – মনে করেন ঝড় তুফানে ঘরবাড়ি ভাইঙ্গা নিলেও আবার কষ্ট কইরা বাড়িঘর কইরা লয় আমার অঞ্চলের মানুষ । আমি মনে করেন সুবিধা হইলে মায়রে লইয়া ঠিকই বাড়িত যামুগা ….

এই ছালা পইরা কে আপনারে ঘুরতে কইছে ?

এইটা আমার গুরুর আদেশ । মনে করেন , একেক পাগলের একেক ড্রেস – আমার ড্রেস ছালা ।

মনিরুল আলম

১৫,নভেম্বর, ২০১৬

পুরান ঢাকা

My New Web and Blog Site | Visit

I would like to inform your that I create my  new web and blog site along with I regullar post my news pictures and video. Please have time to visit it

http://monirulnews.com/

http://monirulnews.com/

http://monirulnews.com/

 

all the best

-monir

ট্যাকা জোগাড় করি মায়ের কাছে লিয়ে যাবো | আকাশ

ছোট ছোট কথা:০১

কমলাপুর ট্রেন ষ্টেশন এ দাড়িয়ে আছি।  ষ্টেশনটি যাত্রী শূণ্য হয়ে আছে। কেউ কেউ বিক্ষিপ্ত ভাবে ঘোরাঘুরি করছে। কেউ বা ষ্টেশনে বসার জায়গা গুলোতে ঘুমিয়ে আছে। এদের দেখলে বোছা যায় এরা কেউ ট্রেনের যাত্রী নয়। তবে এরা এই ষ্টেশনের অস্থায়ী বাসিন্দা। কারো কারো  জীবন-জীবিকা গল্প গুরু হয় এখানেই। ভবঘুরে এই মানুষ গুলো আবার এই ষ্টেশন থেকে অন্য কোন ষ্টেশনে হারিয়ে যায়। যেমনটা হারিয়ে যায় ট্রেনের হুইসেলের শব্দ! ভেপু বাজাতে বাজাতে কোথায় যেন মিলিয়ে যায় সেই শব্দ ! কেউ তার খরব রাখে !

আমার কিন্তুু ট্রেনের হুইসেলর  শব্দ শুনতে খুব ভালো লাগে। কেন তা জানিনা। অনেক অনেক দূর থেকে যখন সেই শব্ধ শুনি; কি যে ভালো লাগে আমার। তখন মনটা কোথায় যেন হারিয়ে যায়।

ভাই! আমার একটা ছবি তুলবেন ? ছেলেটার কথার শব্দে- আমার কল্পনার জগৎ থেকে ফিরে আসি। ওর নাম আকাশ। শারীরিক গঠন থেকে বয়স অনুমান করা কঠিন। সবুজ হাফ প্যান্ট এর সাথে নীল সাদা চেক এর একটি টি-শার্ট পরনে।

ওর চেহারা দেখে আমি বুঝতে পারি ও কি কাজ করে। তারপরও ওকে প্রশ্ন করি। তুমি কি কর ? কোথায় থাকো ? তোমার বাবা/মা . . .

একটু আলাপ-চারিতা। একে অপরকে বুঝে নেওয়া। ষ্টেশনের একটা বেঞ্চ এ বসে পড়ি দুজনে। আকাশ বলতে থাকে তার জীবনের নানা সুখ:দুখের ঘটে যাওয়া ঘটনা . . .

রচনা কাল ২৫ নভেম্বর ২০১৩
পাতলা খান লেন,পুরান ঢাকা
মনিরুল আলম,সাংবাদিক

Copy Right Notice:
All images,videos and text in this site is copyrighted.  http://www.monirulnews.com Please don’t use any image without written permission. Please contact witnessphoto@gmail.com

গরুর কান্ড !

 গরুটার মেজাজটা গেল বিগড়ে আর তখনই গরুটা দিল একটা লাফ ! ছবি:মনিরুল আলম

গরুটার মেজাজটা গেল বিগড়ে আর তখনই গরুটা দিল একটা লাফ ! ছবি:মনিরুল আলম

তখন আমি বুড়িগঙ্গা ১ম সেতুর (বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সেতু-১) উপর দাড়িয়ে আছি। সদরঘাট লঞ্চ র্টারমিনাল থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চের ছবি তুলবো। শেষ সময়ে ছেড়ে আসা প্রায় প্রতিটি লঞ্চে থাকে উপচে পড়া মানুষের ভীড়। কোরবানীর ঈদ থাকায় অনেকইে গরু কিনে নিয়ে বাসায় ফিরছেন। আমি দাড়িয়ে থাকতে থাকতেই দেখলাম পাশের হাট থেকে গরু কিনে বাড়ী ফিরছেন কেউ কেউ। বেশ কিছু ছবি তুল্লাম। যাত্রী বোঝাই লঞ্চ, ট্রলারে করে গরু নিয়ে যাওয়ার নানা ছবি তুলছি থেমে থেমে।

হঠাৎ চোখে পড়লো তাদেরে ! সেতুর দক্ষিণ পাশ থেকে দৃই জন একটা গরু নিয়ে হেটে আসছে। গরুটার রঙ কিছুটা লালচে কালো। গরুর মালিক গরুর রশিটি ধরে আছেন আর তার পিছন পিছন সহোকারি। হঠাৎ করেই যেন গরুটা একটু থেমে গেল ! আর যেতে চাচ্ছে ন। গরুর মালিক রশি ধরে টানাটানি শুরু করে দিল। আর বিপত্তিটা ঘটলো তখই। গরুটার মেজাজটা গেল বিগড়ে আর তখনেই গরুটা দিল একটা লাফ ! মালিক ও কম যায় না। সে রশিটা ধরে রেখেছে। গরুর সহোকারী চেষ্টার করছে গরুটাকে শান্ত করতে। কিন্ত ‍ কে শোনে কার কথা। তিন জনের মধ্যে শুরু হয়ে গেল রীতিমতো ধস্তাধস্তি। ততোক্ষণে আমি আমার ক্যামেরাতে ছবি তুলতে শুরু করে দিয়েছি।

তিন জনের ধস্তাধস্তিতে গরুটা একবার মাটিতে পরে গেল। তারপর তার রাগ যেন আরো বেড়ে গেল। সে প্রচন্ড শক্তি নিয়ে একটা ঝটকা মেরে সামনের দিকে দৌড়াতে লাগলো। মালিক কিস্তু তখনো গরুর রশিটা ধরে রেখেছে! কিন্তু সে আর গরুর দৌড়ের সাথে পেরে উঠলো না। ব্যালেন্স হারিয়ে পরে গেল সড়কের উপর। হাত থেকে ছুটে গেল রশি। আর গরুটির গন্তব্য তখন যে হাট ( হাসনাবাদ, কেরাণীগঞ্জ ) থেকে কিনেছিল সেই হাটের দিকে। পুরো সিরিজটা দেখতে চাইলে ক্লিক করতে পারেন প্রথম আলোর অন লাইন লিঙ্ক এ। ছবি:মনিরুল আলম

 

রচনা কাল ১৫ অক্টোবর ২০১৩
পাতলা খান লেন,পুরান ঢাকা
মনিরুল আলম,সাংবাদিক

Copy Right Notice:
All images,videos and text in this site is copyrighted. http://monirul.photoshelter.com/  OR see more on http://statigr.am/meghmonir Please don’t use any image without written permission. Please contact witnessphoto@gmail.com

পবিত্র হজ পালন ও কিছু কথা . . .

জাতীয় প্রেম ক্লাবের সামনে হাতে লিফলেট নিয়ে দাড়িয়ে তারা। ছবি:মনিরুল আলম

জাতীয় প্রেম ক্লাবের সামনে হাতে লিফলেট নিয়ে দাড়িয়ে তারা। ছবি:মনিরুল আলম

আজ আরাফাতের ময়দান মুখরিত হচ্ছে ‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়ালমুল্ক’ এই ধ্বনিতে। এবার পৃথিবীর মোট ১৫০টির বেশি দেশ থেকে প্রায় দুই মিলিয়ন (২০ লক্ষ ) মুসল্লি হজ পালন করছেন।আমাদের দেশে থেকে ৮৭ হাজারের বেশী এবার হজ্জ করতে গিয়েছেন। খবরে জানা যায় এর মধ্যে পবিত্র হজ্জ পালন করতে এসে আমাদের দেশের ৩৫ জন মারা গিয়েছেন বিভিন্ন কারণে।

তবে দু:খ জনক হলো। আমাদের দেশে প্রায ১৮২ জন পবিত্র হজ্জ পালন করতে ইচ্ছুক মানুষ হজ্জে যেতে পারেনি। তারা প্রতারনার শিকার হয়েছেন। টাকা জমা দিয়েছিলেন কিন্তু বিমানের টিকেট পাননি। প্রতারক তাদের ফাকি দিয়েছেন। সেই দিন প্রেস ক্লাবে কথা হয়েছিল-এই মানুষ গুলোর সাথে। তারা প্রেস ক্লাবে এসেছিলেন প্রতিবাদ করতে।প্রধান মন্ত্রীর সাহায্য চাইতে। প্রতিবাদকারীদের এক জন গোলাম ফারুক- ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন,হজ্জ করতে না যেতে পারলে তারা অনশন করবেন।

বয়স্ক এই মানুষেরা চোখেুমখে ছিল কষ্ট আর গ্লানিতে ভরা কান্না ভেজা চোখ। তারা সবাই প্রতিবাদ শেষে ফিরে গিয়ে ছিলেন হাজ্জি ক্যাম্পে।শেষ ভরসা ছিল যদি সরকার পক্ষ থেকে কিছু করা যায়।পরবতীতে খোজ নিয়ে জানতে পারি-তারা আর যেতে পারেননি। সৌদি সরকার তা শেষ সময়ে অনুমোদন করেনি।

আমাদের নৈতিকতা বোধ কতটা নিচে নেমে গিয়েছে। পবিত্র হজ্জ পালন করতে চেয়ে ছিলেন কিছু মানুষ কিন্তু বিধিবাম প্রতারনার শিকার হলেন।

রচনা কাল ১৪ অক্টোবর ২০১৩
পাতলা খান লেন,পুরান ঢাকা
মনিরুল আলম,সাংবাদিক

Copy Right Notice:
All images,videos and text in this site is copyrighted. http://monirul.photoshelter.com/  OR see more on http://statigr.am/meghmonir Please don’t use any image without written permission. Please contact witnessphoto@gmail.com